গত মাসে জাপান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময় রফতানির আকার ছিল ১ দশমিক ৭৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১ হাজার ১৭৬ কোটি ডলার। এ নিয়ে টানা চতুর্থ মাস জাপান থেকে যুক্তরাষ্ট্রমুখী রফতানিতে পতন দেখা গেল। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত গাড়ির উচ্চ শুল্কের কারণে রফতানিতে পতন ঘটেছে। খবর জাপান টুডে।
দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জুলাইয়ে জাপানের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৫৮ হাজার ৫১০ কোটি ইয়েনে নেমে গেছে। এ সময় অটো রফতানি কমেছে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৪ ট্রিলিয়ন ইয়েনে।
বৈশ্বিকভাবে জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি জুলাইয়ে ৮১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১১ হাজার ৭৫০ কোটি ইয়েনে নেমে এসেছে। এতে প্রভাব ফেলেছে জ্বালানি তেল ও কয়লার দাম হ্রাসজনিত আমদানির মূল্যে তীব্র পতন।
গত মাসে জাপান থেকে বৈশ্বিক রফতানি ২ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হয়ে ৯ দশমিক ৩৬ ট্রিলিয়ন ইয়েনে নেমে এসেছে, যা এ খাতে টানা তৃতীয় মাসের মতো পতন। এছাড়া আমদানি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৪৮ ট্রিলিয়ন ইয়েন, যা দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো হ্রাস।
এপ্রিলে আমদানীকৃত গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান বাজার হওয়ায় এটি জাপানি অটো খাতের জন্য ছিল বড় ধাক্কা। তবে জুলাইয়ের শেষ নাগাদ টোকিও ও ওয়াশিংটন গাড়ির ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশে নামাতে সম্মত হয়েছে।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রমুখী জাপানি অটো পার্টস রফতানি কমেছে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। সেমিকন্ডাক্টর তৈরির যন্ত্রপাতি রফতানি কমেছে ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ।
মেইজি যাসুদা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউইচি কোডামার মতে, গাড়ির ওপর ১৫ শতাংশের শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রমুখী রফতানি ভবিষ্যতে মন্থর থাকতে পারে। জাপানি অটোমেকাররা শুল্ক খরচ যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির দাম বাড়ালে অর্থমূল্যে রফতানির পতন সংকুচিত হতে পারে। তবে এমন পদক্ষেপ নিলে বিক্রি ও চালানের পরিমাণে পতন ঘটতে পারে।
চীনের সঙ্গে জাপান টানা ৫২ মাস বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে। জুলাইয়ে ঘাটতি ৬০ হাজার ৯২০ কোটি ইয়েনে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কম। চীনে রফতানি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে হয়েছে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ও আমদানি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ২১ ট্রিলিয়ন ইয়েন।
তবে চীনসহ এশিয়ার বাকি অংশের সঙ্গে জাপানের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ৩ দশমিক ৬ গুণ বেড়ে ৪৭ হাজার ৮৫০ কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। টানা ছয় মাস ধরে উদ্বৃত্তে রয়েছে জাপান। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে টানা ১৮ মাস বাণিজ্য ঘাটতিতে রয়েছে জাপান। জুলাইয়ে ঘাটতির আকার ছিল ২৭ হাজার ৮০০ কোটি ইয়েন।